
দুপুর থেকেই শিলংয়ে বৃষ্টি। সাথে কনকনে শীতল হাওয়া। এই রকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা জরহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামের টার্ফে ছিল। বাংলাদেশ দল অনুশীলনে আসছে, তাই বাড়তি নিরাপত্তা ভারতের। স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় আসার কথা থাকলেও খানিকটা বিলম্বে আসায় বৃষ্টি-বজ্রপাতে সাংবাদিকদের অনেকে ঠান্ডায় থরথরে কাঁপছিলেন।
ছোট দুটো মাইক্রোতে বাংলাদেশ দল আসে অনুশীলন ভেন্যুতে। হামজা-জামালরা গাড়ি থেকে নামতেই সাংবাদিকদের মোবাইল, ক্যামেরার ক্লিক। ভারতীয় সাংবাদিকরাও ছিলেন বাংলাদেশের অনুশীলনে। বাংলাদেশের হয়ে খেলবেন হামজা আর ভারতে অবসর ভেঙে ফিরেছেন সুনীল ছেত্রী ফলে এই ম্যাচের উন্মাদনা-উত্তেজনা ছড়িয়েছে অনেক বেশি।
জাতীয় দলের অন্যতম সিনিয়র ফুটবলার তপু বর্মণ। ভারতের বিপক্ষে বেশ কয়েকটি ম্যাচই খেলেছেন এই ডিফেন্ডার। অন্য সব ম্যাচের চেয়ে আগামী পরশুর ম্যাচ ভিন্ন সেটা অকপটেই বললেন অনুশীলন ভেন্যুতে দাড়িয়ে, ‘অনেকগুলো ম্যাচই খেলেছি ভারতের সঙ্গে। এবারের ম্যাচটা ভিন্ন। কী একটা হাইপ উঠেছে। বাংলাদেশের মানুষজন পজিটিভ এবং সবাই তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে।’
দলের অন্যতম সিনিয়র ফুটবলার তিনি। তাই তার বাড়তি দায়িত্বও রয়েছে, ‘অবশ্যই বড় দায়িত্ব থাকবে আমার। প্রথমত কোনো গোল কনসিভ না করা। আমার সঙ্গে ডিফেন্সে আরো তিন জন যারা থাকবে তাদের নিয়ে লক্ষ্য থাকবে সঠিকভাবে ডিফেন্স করা।’
বাংলাদেশ দলের কোচ ও খেলোয়াড়রা বরাবরই বলে আসছিলেন তারা নিজেদের খেলা ও পরিকল্পনা নিয়েই ব্যস্ত। ম্যাচের আর মাত্র ৪৮ ঘন্টা বাকি। এই সময় অবশ্যই প্রতিপক্ষের সক্ষমতা-দুর্বলতার ব্যবচ্ছেদ চলছে। ভারতের বর্তমান দল নিয়ে তপুর পর্যবেক্ষণ, ‘ভারত সব সময় ভালো দল। আইএসএল ম্যাচ খেলছে খেলোয়াড়রা। যারা ইনজুরির জন্য ছিটকে গেছেন দল থেকে তাদের পরিবর্তে যারা এসেছে তারাও ভালো। সুনীল অবসরে যাওয়ার পর ভারত ম্যাচ জিতেনি, সে ফেরার পর আবার জিতেছে।’
ভারত ম্যাচের আগে সেটপিস নিয়ে বিশেষ কাজ করছেন কোচ ক্যাবরেরা। এ নিয়ে তপু বলেন, ‘সেটপিস নিয়ে কাজ হয়েছে অনেক দিন। শেষ ম্যাচে ইন্ডিয়া গোল করেছে তিনটাই সেটপিসে। সুনীল, জিঞান অত্যন্ত ভালো সেটপিসে। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে যেন সেটপিসে গোল কনসিড না করি।’
ঘরোয়া লিগে এবার তপু নিজেও গোল করেছেন। জাতীয় দলের হয়েও গোল রয়েছে এই ডিফেন্ডারের। রক্ষণের পাশাপাশি গোলের দিকেও আশা রয়েছে তার, ‘এটা পজিটিভ দিক যে আমি গোল করেছি ও করতে পারি। সুযোগ পেলে এই ম্যাচেও করতে চাই।’
গোলের খেলা ফুটবল। ম্যাচ জিততে হলে গোল করতে হবে। ফরোয়ার্ড ইব্রাহীম গোল নিয়ে বলেন, ‘আমরা সবাই টিমওয়ার্ক হিসেবে কাজ করছি। কোচ যে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সেটা বাস্তবায়ন করাই আমাদের কাজ।’
২০১৯ সালে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ভারতের সল্টলেক ম্যাচ খেলেছিলেন ইব্রাহীম। সেই ম্যাচে তিনি দুর্দান্ত খেলেছেন। যদিও গোল করতে পারেনিন। এবার সুযোগ পেলে গোল করতে চান, ‘আমি সেই ম্যাচে ছিলাম গোল পাইনি এবার যদি কোচ সুযোগ দেন খেলার অবশ্যই গোল করতে চাই।’ শিলংয়ে কনকনে ঠান্ডা বাংলাদেশের জন্য অস্বাভাবিকই। এরপরও এটি সমস্যা মনে করছেন না ইব্রাহীম, ‘আমরা তায়েফে অনুশীলন করেছি। তায়েফের আবহাওয়া এ রকমই ছিল।’
The post সেটপিসে বাড়তি সর্তকতা appeared first on Bangladesher Khela.