

আল আমিন,বাবুগঞ্জ(বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের বাবুগঞ্জের দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের ৪ জন কৃষক মিলে ২ একর জমিতে সূর্যমূখী ফুলের চাষ করে সারা ফেলে দিয়েছে। দৃষ্টিনন্দন হলুদে সূর্যমুখী বাগানের ফুলগুলি যেন সূর্যের দিকে তাকিয়ে হাসছে। তা দেখে আশপাশের কৃষকেরা অবাক। এতে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তবে কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে চাষ করা এই ফসলের বাণিজ্যিক ব্যবহার সর্ম্পকে এখনও অজ্ঞ এই তরুণ চাষিরা। এক্ষেত্রে ফসল বিক্রি ও মাড়াইয়ে কৃষি অফিসের সহযোগিতা আশা করছেন তারা। জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পার্টনার প্রকল্পের আওতায় (প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এনটারপ্রেনরিশিপ এন্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ) আওতায় হাইসান-৩৩ জাতের সূর্যমখী চাষে সফল হয়েছেন তারা। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একই প্রকল্পের আওতায় আইপিএম কৌশলের মাধ্যমে তেল জাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে ৫ প্রদর্শনীতে কৃষকরা সূর্যমূখী চাষে সফল হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় সূর্যমুখী থেকে ভালো লাভবান হওয়ার আশা করছেন কৃষকেরা। দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ১ বিঘা জমিতে সূর্যমূখী চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। কিন্ত প্রতিদিন শতশত টিয়া পাখি এসে সূর্যমূখীর দানা খেয়ে ফেলছে। আমরা আশাবাদী টিয়াপাখি’র আক্রমণ থেকে রক্ষা পেলে ভালো উৎপাদন হবে। গ্রামে এখনও সূর্যমূখীর উপকারিতা সম্পর্কে ধারনা কম। বাজার সৃষ্টি করতে পারলে আগামীতে এ অঞ্চলের মানুষ সূর্যমুখী চাষে ঝুকবে। একই গ্রামের কৃষক লিটন হাওলাদার বলেন এবারই প্রথম আমরা সূর্যমুখীর আবাদ করেছি এখন পর্যন্ত ফসলের যে অবস্থা তাতে আশা করি আমাদের ভালো ফলন আসবে। আমরা যদি সঠিক ভাবে বাজার জাত করতে পারি তবে আগামীতে আমি সহ আরো অনেকেই আরো বেশী জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করবো। এছাড়া ব্যাক্তিগত উদ্যোগে উপজেলার চাঁদপাশা, মাধবপাশা ও রহমতপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সূর্যমখী চাষ করতে দেখা গেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সূর্যমুখী চাষে বদলে গেছে আশপাশের দৃশ্যপট। সূত্র জানায়, ভোজ্যতেল হিসেবে সয়াবিনের একক আধিপত্যের বাজারে বিকল্প তেল উৎপাদনের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে কৃষকরা। সেই সঙ্গে সয়াবিন তেলের তুলনায় কম কোলেস্টেরল এবং সহজেই চাষ উপযোগী হওয়ায় সূর্যমুখী আবাদ অনেকটাই লাভজনক। তাছাড়া মাঠে আবাদের পাশাপাশি বাড়ির আঙিনায় ও পতিত জমিতেও চাষ করা যায় এই তেলবীজ জাতীয় ফসল। এই অবস্থায় সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃষক পর্যায়ে তেল উৎপাদনের জন্য কলকারখানা স্থাপন করে সরকারকে পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এবার উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে ৭ একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। এ বিষয়ে কৃষি অফিসার আব্দুর রউফ বলেন, আমরা তেল ফসল উৎপাদনে কৃষকদের মাঝে আগ্রহ তৈরি করতে প্রদর্শনী দিয়েছি। তাদের বীজ, সার,কীটনাশকসহ সকল ধরনের সহযোগিতা করছি। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষনিক কৃষকদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। আশাকরি আগামীতে বাবুগঞ্জে সূর্যমূখী ফুল চাষ বৃদ্ধি পাবে। আমরা চেষ্টা করছি সূর্যমূখী তেল ও বীজ বিক্রির বাজার সৃষ্টি করতে। যাতে কৃষক ভালো দাম পায়।
The post বাবুগঞ্জে সূর্যমুখীর বাণিজ্যিক চাষ, প্রথমবারেই বাজিমাত appeared first on Amader Barisal – First online Newspaper of Greater Barisal – Stay with Barisal 24×7.